Author name: Md Rukon Ahmed

Educational

ফলাফল বিপর্যয় নাকি শিক্ষা ব্যবস্থার দূরাবস্থা???

গত ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত হয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক এবং সমমানের বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফল। সবগুলো শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলই অতীতের তুলনায় অনেক খারাপ।মাননীয় শিক্ষা উপদেষ্টার বক্তব্য ” অতিরিক্ত নম্বর দিয়ে সন্তুষ্টি নয়- ন্যায্য নম্বর দিয়ে সততাকে বেছে নিয়েছি।”উনার বক্তব্যকে সাধুবাদ জানাই। তবে সমস্যা হচ্ছে বছরের পর বছর ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থার কারনে যেই ঘাটতি তৈরি হয়েছে, হঠাৎ করেই কি তার থেকে উত্তরণ সম্ভব!!!শিক্ষার ঘাটতি শুরু হয় সেই প্রাথমিক স্তর থেকে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জনবল স্বল্পতা, পরিকল্পনাবিহীন পাঠ্যসূচি প্রণয়ন, অপ্রতুল বেতন – কি নেই!!!মরার উপর খাড়ার ঘা হচ্ছে প্রাথমিকের শিক্ষকদের উপর পেপার-অনলাইন বিভিন্ন কার্যক্রম চাপিয়ে দেয়া। ফলাফল ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও শিক্ষকগণ পর্যাপ্ত শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারে না। আর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা কত শতাংশ সচেতন তা বলাই বাহুল্য।…কিন্ডারগার্টেনগুলোর কথা কি আর বলবো- এগুলোর উপর তো আপনাদের কোনকালেই কোন নিয়ন্ত্রণ ছিলো না, নেই অথবা সদিচ্ছার অভাব। সব কিছুর পর কেন্দ্রীয়ভাবে সমাপনী পরীক্ষা নিয়ে কি যাচাই করে যে সার্টিফিকেট দিতেন তা আল্লাহ মালুম😢😢😢।সমাপনী পাশ করা শিক্ষার্থীদের বড় একটা অংশ ঠিকঠাক বাংলা রিডিং পড়তে পারে না, ইংরেজি আর গণিতের কথা নাই বা বললাম। এবার মাধ্যমিকের শিক্ষকগণ পরেন মহা বিপাকে।প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিদের বক্তব্য থাকে এতদূর পাশ করেআসছে তোমরা পারছো না কেন??? সত্যটা তাদের হাজার চেষ্টা করেও বুঝানো দায়!!!…. শিক্ষক বেশি কড়াকড়ি করলে শিক্ষকের মান নিয়ে প্রশ্ন!!!….ফলাফল পর্যাপ্ত জ্ঞান না নিয়েই উপরের ক্লাসে উত্তীর্ণ।…..এভাবেই চলছে বছরের পর বছর। বোর্ড পরীক্ষায়ও তার ব্যতিক্রম হয় নি- মোটকথা আপনাদের প্রশ্রয়েই কিন্তু এই অপসংস্কৃতির বিকাশ ঘটেছে।এবার আসি উচ্চ মাধ্যমিক এর কথায়। মাতৃভাষা বাংলার সিলেবাস আর ইংরেজির সিলেবাস কখনো তুলনা করে দেখেছেন??? কোন খামতি, অসামঞ্জস্য চোখে পরে না??!!! আকাশ থেকে উদয় হওয়া আরেক বিষয় আইসিটি- পাঠ্যসূচিতে কি আছে, কোন উদ্দেশ্যে সব গ্রুপের (বিজ্ঞান, মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা) শিক্ষার্থীদের পড়ানো হচ্ছে তা আপনারাই জানেন। অথচ কত কার্যকরী হতে পারতো এর পাঠ্যসূচি!!!….বলতে পারেন এর জন্য আপনারা দায়ী নন, সকল দায়ভার পূর্বতনদের। আপনারা তো শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন আনতে চাচ্ছেন। কথা সত্য, আবার এই অবস্থার পরিবর্তনও অত্যাবশ্যক – স্বীকার করছি।কিন্তু কথা হচ্ছে সেটা কি আচমকা কঠোর মূল্যায়ন এর মাধ্যমে করা উচিত???? নাকি সম্ভব???? এবারের মূল্যায়ন প্রক্রিয়া কি অব্যাহত থাকবে??? রাখতে পারবেন????এতো বছরের ঘাটতি শিক্ষার্থীরা কি এতো দ্রুত পুষিয়ে নিতে পারবে??যদি উওর না হয়, তাহলে এমন সিদ্ধান্তের বলি কেন এক বা দুই ব্যাচের শিক্ষার্থীরা হবে????দায়িত্বশীল পদে আছেন, সবদিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত ছিলো। বিকল্প পন্থা খুঁজে বের করা উচিত ছিলো। সিস্টেম এর পরিবর্তন করা প্রয়োজন ছিলো, অনলাইন কার্যক্রম ( টিকটক, জুয়া বা অন্যান্য) এর লাগাম টেনে ধরা উচিত ছিলো। কিছুই না করে, সবচেয়ে সহজ পন্থা অবলম্বন করলেন। আর কিছু খুঁজে বের না করতে পারলে গ্রেজ মার্কস দিতে পারতেন। শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশ তৃণমূল পর্যায়ের, ওদের কথা ভুলে গেলে চলবে কেন!!!পরিবর্তনটা অবশ্যই প্রয়োজন তবে ধীরে – রয়ে সয়ে।আর শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলছি সত্যিকারের পড়ার বিকল্প নেই, কোন কালেই ছিলো না। ফাঁপা-অন্ত:সারশূন্য শিক্ষা গুড়িয়ে পরবেই, আগে বা পরে।

Educational

শিক্ষক, শিক্ষা আর আত্মসম্মানের অবক্ষয়!!!!…

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষকদের আন্দোলন দেখলাম— তাদের কণ্ঠে ক্ষোভ আছে, কিন্তু দর্শন নেই। দাবি আছে, কিন্তু দৃষ্টিভঙ্গি অনুপস্থিত। যে পেশা চিন্তা, আলো আর নৈতিকতার প্রতীক হওয়ার কথা, সেই জায়গাটায় এখন শোনা যায় শুধু “গ্রেড” আর “বেতন” এর স্লোগান। কেউ বললেন, “ছেলে ইলিশ চেয়েছে, পাঙ্গাস খাইয়ে দিয়েছি”। কেউ বললেন, “দেশি মুরগি খেতে পারি না, টাকা নেই”। আর কেউ কষ্টভরে জানালেন, “৫০ বছরেও বিয়ে করতে পারিনি, কেউ মেয়ে দেয় না।” হৃদয় ব্যথিত হয়, কিন্তু প্রশ্ন জাগে — একজন শিক্ষক কি কেবল নিজের দারিদ্র্যের গল্প বলার জন্য মঞ্চে ওঠেন? না কি তিনি জাতির বিবেক, যিনি অন্যদের চোখ খুলে দেন, পথ দেখান? প্রতিনিধিত্ব করেন অনাগত দিনের? যখন শিক্ষক নিজের দুঃখের প্রদর্শনী করে, তখন শিক্ষার মর্যাদা ক্ষয়ে যায়। যে শিক্ষক ছাত্রকে জ্ঞান ও মর্যাদার পাঠ শেখানোর কথা, তিনি যদি নিজেই আত্মসম্মান ভুলে যান, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কোথা থেকে শিখবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে? এই আন্দোলন হওয়া উচিত মর্যাদার জন্য, চিন্তার জন্য, শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য, শিক্ষার পুনর্জাগরণের জন্য। তা না হয়ে হয়েছে কে দেশি মুরগি খেতে পারছেন না, কে ইলিশ খাওয়াতে পারেননি, কে বিয়ে করতে পারছেন না! কারণ, শিক্ষক যদি নিজের সম্মান ভুলে যান, তাহলে গোটা জাতিই একদিন আত্মসম্মান হারাবে!!!… দাবি থাকতেই পারে কিন্তু তা আত্মসম্মান ভুলুন্ঠিত করে নয়।….      

Scroll to Top