প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষকদের আন্দোলন দেখলাম—
তাদের কণ্ঠে ক্ষোভ আছে, কিন্তু দর্শন নেই। দাবি আছে, কিন্তু দৃষ্টিভঙ্গি অনুপস্থিত। যে পেশা চিন্তা, আলো আর নৈতিকতার প্রতীক হওয়ার কথা, সেই জায়গাটায় এখন শোনা যায় শুধু “গ্রেড” আর “বেতন” এর স্লোগান।
কেউ বললেন, “ছেলে ইলিশ চেয়েছে, পাঙ্গাস খাইয়ে দিয়েছি”। কেউ বললেন, “দেশি মুরগি খেতে পারি না, টাকা নেই”। আর কেউ কষ্টভরে জানালেন, “৫০ বছরেও বিয়ে করতে পারিনি, কেউ মেয়ে দেয় না।”
হৃদয় ব্যথিত হয়, কিন্তু প্রশ্ন জাগে — একজন শিক্ষক কি কেবল নিজের দারিদ্র্যের গল্প বলার জন্য মঞ্চে ওঠেন?
না কি তিনি জাতির বিবেক, যিনি অন্যদের চোখ খুলে দেন, পথ দেখান? প্রতিনিধিত্ব করেন অনাগত দিনের?
যখন শিক্ষক নিজের দুঃখের প্রদর্শনী করে, তখন শিক্ষার মর্যাদা ক্ষয়ে যায়।
যে শিক্ষক ছাত্রকে জ্ঞান ও মর্যাদার পাঠ শেখানোর কথা,
তিনি যদি নিজেই আত্মসম্মান ভুলে যান, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কোথা থেকে শিখবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে?
এই আন্দোলন হওয়া উচিত মর্যাদার জন্য, চিন্তার জন্য, শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য, শিক্ষার পুনর্জাগরণের জন্য।
তা না হয়ে হয়েছে কে দেশি মুরগি খেতে পারছেন না, কে ইলিশ খাওয়াতে পারেননি, কে বিয়ে করতে পারছেন না!
কারণ, শিক্ষক যদি নিজের সম্মান ভুলে যান, তাহলে গোটা জাতিই একদিন আত্মসম্মান হারাবে!!!…
দাবি থাকতেই পারে কিন্তু তা আত্মসম্মান ভুলুন্ঠিত করে নয়।….
